ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভাগ্য দেবী সাফের দ্বাদশ আসরে দারুণভাবে সহায়তা করেছে মালদ্বীপকে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ না জিতেও তারা সেমিফাইনালে উঠেছে। আর সেমিফাইনালে এসে নেপালের মতো লড়াকু দলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে পঞ্চমবারের মতো সাফের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপ। শনিবার ভারত কিংবা পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা ফাইনাল খেলবে।

এবারের আসরে অন্যতম দুর্বল দল ছিল মালদ্বীপ। প্রথম ম্যাচে তারা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। এরপর ভারতের কাছে হেরে যায় ২-০ ব্যবধানে। তাতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, পয়েন্ট, গোল পার্থক্য ও হলুদ কার্ড সব কিছুতে সমান-সমান হয় মালদ্বীপের। এরপর ভারতের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপ থেকে কে যাবে সেমিফাইনালে সেটা নির্ধারণ করতে লটারির আশ্রয় নেওয়া হয়। লটারি নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ভাগ্য দেবী মুখ তুলে তাকান মালদ্বীপের দিকে। তারা চলে যায় সেমিফাইনালে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও না জেতায় মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম ধুয়ে দেয় মালদ্বীপের জার্মান কোচ সেগার্ট পিটারকে। সেমিফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘোষণা দিলেন নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জিতবেনই। তারাই উঠবেন ফাইনালে। তার মুখ রক্ষা করেছেন শিষ্যরা। পুরো টুর্নামেন্টে লড়াকু ফুটবল খেলে আসা নেপালকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে মালদ্বীপ।

বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে লিড নিতে বেশি সময় নেয়নি মালদ্বীপ। ম্যাচের ৯ মিনিটে ফ্রি কিক পায় তারা। এ সময় ফ্রি কিক থেকে গোল করেন আকরাম আব্দুল ঘানি। এরপর বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ম্যাচ বন্ধ থাকে। ৫টা থেকে আবার খেলা শুরু হয়। নেপাল প্রভাব বিস্তার করে খেললেও গোল আদায় করে নিতে পারেনি। তাতে ১-০ পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে আসা নেপাল।

বিরতির পরও তারা গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে খেলে। একের পর এক আক্রমণ শানায়। কিন্তু কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল হজম করে বসে তারা। ৮২ মিনিটের সময় আসাদুল্লাহ আব্দুল্লাহ বল নিয়ে আক্রমণে যান। তিনি শট নেন। সেটা ফিরিয়ে দেন নেপালের বিশাল রায়। তার থেকে পেনাল্টি বক্সের সামনে বল পেয়ে যান মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম ওয়াহেদ হাসান। তিনি শট নেন। বল জালে আশ্রয় নেয়। দুই মিনিট পরে সেই আসাদুল্লাহর কাছ থেকে একইভাবে বল পেয়ে শট নেন ইব্রাহিম। নেপালের গোলরক্ষক বলটি ধরার চেষ্টাই করলেন না। হাস্যকর গোলে মালদ্বীপ এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।

এখান থেকে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি নেপাল। গ্রুপ পর্বে ভালো খেলেও বিদায় নিতে হল বাল গোপাল মহার্জনের শিষ্যদের। ৬৬.২ শতাংশ বলের দখল ছিল নেপালের কাছে। ৩৩.৮ শতাংশ বলের দখল ছিল মালদ্বীপের কাছে। কখনো কখনো ভালো খেলা দলও ফুটবলে হেরে যায়। সেটা আরো একবার প্রমাণিত হল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here