আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে বাড়ানো হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। অন্যদিকে কমিয়ে আনা হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা। এতে বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ সরকারকে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ অপেক্ষাকৃত কম টাকা গুনতে হবে।
তবে বেসরকারি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। তাদের মতে, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে।
পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। যে কারণে ঋণ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে এ খাত থেকে টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে। তবে অন্য বছরের মতো জিডিপি’র ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে নতুন ঘাটতি বাজেট। সেই হিসেবে এটি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
বাজেট ঘাটতি পূরণ করা হয় দু’ভাবে। এর একটি হচ্ছে বৈদেশিক সহায়তা, অপরটি অভ্যন্তরীণ উৎস। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস হিসেবে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। যা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা আইএমএফ’র শর্ত অনুযায়ী জিডিপি’র ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে। আগামী ১৩ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট।

এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬০ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অভ্যন্তীরণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে নেয়া হবে ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা বেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে।

তবে সূত্র জানায়, সর্বশেষ হিসাবে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ১৪ শতাংশ ঋণ ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অস্বাভাবিক কম ব্যাংক ঋণ নেয়ার পেছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট থাকা ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি অব্যাহত রাখা।

অভ্যন্তরীণ অংশের আরেক খাত- সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটে ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটে এই খাত থেকে ১২ হাজার ২৯ কোটি টাকা কম নেয়া হবে। সর্বশেষ হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র খাত থেকে নেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে এটি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

আরও জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ চলতি বছরের তুলনায় খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। কারণ বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আগের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। যে কারণে ঋণ ও অনুদান দেয়ার পরিমাণও কমছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও ঋণনির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এজন্য আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। চলতি বাজেটে এ খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। যা আগামী বাজেটে ৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা কম ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাজেট হবে এক বছরের আয় ও ব্যয়ের হিসাব। কিন্তু এর মধ্যে আগামী ৫ বছরের দর্শন থাকবে। চলতি বাজেট থেকে আগামী বাজেটের আকার বড় হবে। তবে সঞ্চয়পত্র খাতে কিছু সংস্কার করা হবে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে। এজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএস’র সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত সঞ্চয়পত্রের সুদ হার বেশি ও ব্যাংকের কম। ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে সুদ বেশি গুনতে হবে। যে কারণে সরকার এ খাত থেকে ঋণ নেয়া কমিয়েছে। তবে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়া হলে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি ঋণে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বেসরকারি উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত ঋণ না পেলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহণ করলে সেটি যেন উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হয় সেদিকে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে। তাহলে ঋণ নেয়ার বিরূপ প্রভাব কাটাতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ কম বিধায় ঋণ নিয়ে সরকারকে চলতে হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক। তবে ঋণের অর্থ ব্যয় যেন যুক্তিযুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আগামী বছর ঘাটতির পরিমাণ জিডিপি’র ৫ শতাংশের ওপরে যাবে না। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতি বছর ঘাটতি বাজেট জিডিপি’র ৩ থেকে ৪ শতাংশের বেশি হয় না। এরপরও ৫ শতাংশ হিসাব ধরেই ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র খাতে ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রম চলছে। কারণ বিগত সময়ে অধিকাংশ সঞ্চয়পত্রের মালিক হয়েছেন ধনী শ্রেণী। অথচ সমাজের পেনশনকারী, নিু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন এর প্রকৃত উপকারভোগী হওয়ার কথা। যে কারণে সঞ্চয়পত্র খাতে সংস্কারের মাধ্যমে প্রকৃতদের হাতে এটি তুলে দেয়া হবে। এজন্য এ খাত সংকুচিত করা হচ্ছে।

26 মন্তব্য

  1. Hi there just wanted to give you a quick heads up. The text in your content seem to be running off the
    screen in Ie. I’m not sure if this is a formatting issue or something to do with web
    browser compatibility but I figured I’d post to let you know.
    The layout look great though! Hope you get the
    issue resolved soon. Cheers

  2. Heya superb website! Does running a blog such as this require a large amount of work?
    I’ve no expertise in programming however I had been hoping to start
    my own blog in the near future. Anyways, if you have any ideas or tips
    for new blog owners please share. I know this is off topic nevertheless I simply needed
    to ask. Many thanks!

  3. naturally like your web site but you have to test the spelling on several of your posts.
    A number of them are rife with spelling issues and I in finding
    it very bothersome to inform the truth then again I’ll surely come back
    again.

  4. Greetings from California! I’m bored to death at work so
    I decided to check out your site on my iphone during lunch break.
    I really like the info you present here and can’t wait to take a look when I get home.
    I’m amazed at how fast your blog loaded on my phone ..

    I’m not even using WIFI, just 3G .. Anyhow, fantastic site!

  5. Howdy, i read your blog from time to time and i own a similar one and i was
    just curious if you get a lot of spam remarks? If so how do you prevent
    it, any plugin or anything you can advise? I get so much lately it’s driving me crazy so
    any help is very much appreciated.

  6. I think that everything typed made a lot of sense. But, what about this?
    what if you were to write a awesome post title?
    I ain’t suggesting your information isn’t good., however suppose you added a title to possibly grab folk’s
    attention? I mean আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণ, বাড়বে ব্যাংক ঋণ, কমবে সঞ্চয়পত্রনির্ভরতা – hmnews24.com
    is a little boring. You ought to glance at Yahoo’s front page
    and watch how they create post titles to get people to click.
    You might add a related video or a related picture or
    two to get people interested about everything’ve got to say.

    In my opinion, it would make your blog a little bit more interesting.

  7. Do you mind if I quote a few of your posts as long as I provide credit and sources back to your
    blog? My website is in the exact same area of interest as yours and my visitors would really benefit from some of the information you provide here.
    Please let me know if this alright with you. Thank you!

  8. Hello there! This is kind of off topic but I need some guidance from an established blog.
    Is it very difficult to set up your own blog?
    I’m not very techincal but I can figure things out pretty fast.
    I’m thinking about creating my own but I’m
    not sure where to begin. Do you have any ideas
    or suggestions? With thanks

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here