২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় ল পয়েন্টের ওপর যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে দুজন প্রসিকিউটর যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করার পর তা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বেলা সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা আড়াইটা পর্যন্ত যুক্তি শোনেন।

বুধবার যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ওই ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার বন্ধের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার শুরু করেন। বিচার শেষ হয়। এর পরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে বিএনপিসহ চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই শুরু হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র। যে কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে। তাদের ধারণা ছিল- শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারলে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের মসনদ চিরস্থায়ী করা যাবে। ওই কারণেই হাওয়া ভবনের চক্রান্তে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। মামলাটির বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করেছিল। যা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ২২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে।

এরপর মামলাটির প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমানের সহযোগী অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, আসামিপক্ষ অধিকতর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। যথাযথভাবেই রাষ্ট্রপক্ষ অধিকতর তদন্তের আবেদন করে এবং আদালত তদন্তের আদেশ দেয়। আসামিপক্ষ আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তাও গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়েছে, এমন কিছু আসামিপক্ষ দেখাতে পারেনি। এছাড়া, তারা সাক্ষ্য আইনের ১০ ও ২২ ধারা প্রয়োগ এ মামলায় হতে পারে না মর্মে যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতের কিছু সিদ্ধান্ত আদালতে উপস্থাপন করেন।

এরপর মামলার প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, এক যুগের বেশি সময় পর হলেও আমরা দুটি মামলা একসঙ্গে এ পর্যায়ে আনতে পেরেছি। আমরা ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য ২২৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি। আসামিপক্ষ থেকে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ৬১ জন সাক্ষীর পর অধিকতর তদন্ত নিয়ে। আমরা আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করেই আবেদন করি এবং বিজ্ঞ আদালত আদেশ দেন। এখানে আইনের কোনো প্রকার লঙ্ঘন হয়নি। আর প্রশ্ন তুলেছেন, অধিকতর তদন্তে থাকা অবস্থায় মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় স্বীকারোক্তি করা নিয়ে। এখানেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। হান্নানের স্বীকারোক্তি একটি আরেকটির ধারাবাহিকতা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আর কেউ সমর্থণ করে সাক্ষ্য দেয়নি। কিন্তু আমরা হান্নানের বক্তব্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করেছে এমন ৪১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছি। আসামি হান্নানের স্বীকারোক্তির মধ্যে একটি অংশ আছে ক্রিমিনাল কন্সপিরেসির, যা আদালতকে বিবেচনায় নিতে হবে।

এরপর প্রসিকিউটর আগামী সপ্তাহে তিন দিন যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করার আবেদন করেন।

এ সময় বিচারক বলেন, আমার মনে হয়, তিন দিন প্রয়োজন হবে না। দুই দিন দিলেই হবে। একদিন রাষ্ট্রপক্ষ বলবেন, আরেকদিন আসামিপক্ষ বলবেন। আর আসামিপক্ষ থেকে এস এম শাহজাহান জবাব দেবেন। ওই দুই দিনে আমরা শেষ করতে পারব।

এরপর বিচারক আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here