ঘুমন্ত শিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা

0
59

রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের পাশে মায়ের পাশে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন শিশুটি। গভীর রাতে এক যুবক এসে মায়ের পাশ থেকে তুলে নিয়ে যায় শিশুটিকে। যখন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও শিশুটি ওই যুবকের কোলে গভীর ঘুমে। কিন্তু আরামের এই ঘুম থেকে তাকে যে নির্মম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চিরঘুমে যেতে হবে, তা হয়তো কিছুই আঁচ করতে পারেনি তিন বছরের শিশুটি। ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে সারাদিন গণধর্ষণের পর শরীর থেকে মাথা আলাদা করে লাশ পুঁতে রাখে তিন পাষণ্ড। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশে।

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঘুমন্ত শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শিরশ্ছেদের ঘটনায় রাজ্যেটিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ, যারা এর আগেও ধর্ষণের অভিযোগে জেল খেটেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের একজনের মা ঝাড়খণ্ড পুলিশের কর্মী, অন্যজনের বাবা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ।

ঝাড়খণ্ডের পুলিশ বলছে, ২৫ জুলাই রাতে ইস্পাত নগরী বলে পরিচিত জামশেদপুর বা টাটানগর রেল স্টেশনে মায়ের সঙ্গে ছোট্ট শিশুটি ঘুমিয়ে থাকার সময়ই দুই ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে। ওই শিশুটির মা পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বাড়ি ছেড়ে উড়িষ্যার দিকে যাচ্ছিলেন এক পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে। পথে টাটানগর স্টেশনে থেমেছিলেন তারা। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের কাছে নিজের পুরুষ সঙ্গীর নামেই শিশু অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তখন মায়ের পুরুষ-সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে জেলেও পাঠায় পুলিশ। কিন্তু তারপরে ক্লোজড সার্কিট টিভির ফুটেজ দেখে শিশুটির অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জামশেদপুরের রেল-পুলিশের এসপি এহতেশাম ওয়াকারীব জানান, ‘প্রথমে ওই শিশুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার পুরুষ-সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হলেও সিসিটিভির ফুটেজ থেকে অপহরণকারীদের ছবি নিয়ে সেটা গোয়েন্দাদের মধ্যে আর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সূত্রেই খবর আসে যে রিঙ্কু সাহু নামের এক যুবক এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।’ পুলিশ প্রথমে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজে পায়নি। অন্যান্য জেলাতে তল্লাশি টিম পাঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘অপরাধের কথা সে স্বীকার করেছে। সে-ই দেখিয়ে দেয় যে কোথায় ওই শিশুটির দেহ পুঁতে রেখেছিল। অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি কৈলাশ কুমারের নামও সে-ই জানায়। দুজনেই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

গত বছর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে একটি তিনমাসের শিশুকেও অনেকটা একইভাবে তার ঘুমন্ত বাবা-মায়ের পাশ থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে মাথা থেঁতলে মেরে ফেলে এক ব্যক্তি। পরে ২২ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সেখানকার আদালত।

বছর তিনেক আগে কলকাতা শহরের একটি ফুটপাথ থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করে একটি অ্যাপক্যাবের চালক ও তার বন্ধু, তারপরে তাকে ধর্ষণ করে দেহ খালে ফেলে দেয়।