আলোচিত শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিলেট জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেটের তারাপুর চা বাগান লিজের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় ৯ আগস্ট রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নিম্ম আদালতের সাজা বহাল রাখে সিলেট বিশেষ দায়রা জজ আদালত। একই সাথে উচ্চ আদালতের জামিনে থাকায় আসামি দুজনকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নির্ধারিত সময়ের পাঁচদিন আগে বুধবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানির পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।

প্রসঙ্গত, তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে এ বাগান দখল করেন রাগীব আলী। ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি এবং সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ওই মামলা দুটি পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট। ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দিনই রাগীব আলী তার ছেলে আবদুল হাইকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ১২ নভেম্বর জকিগঞ্জ সীমান্তে গ্রেপ্তার হন আবদুল হাই। আর রাগীব আলী ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জে গ্রেপ্তার হন।

সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

একই বছরের ৬ এপ্রিল প্রতারণা করে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলী ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়।

এছাড়া, পলাতক থেকে দৈনিক সিলেটের ডাক নামের একটি সংবাদপত্র প্রকাশের অভিযোগে ছেলেসহ রাগীব আলীর আরো এক বছরের কারাদণ্ড হয়। এ তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি পান রাগীব আলী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here