বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, তাদের অনেকেই স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। আওয়ামী লীগের কাছে এমন প্রমাণ আছে বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম চলাকালে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবার উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিজয়ীর সংখ্যায় বেশি ছিল বিএনপির। গতবার যারা বিজয়ী হয়েছে তারা এবার নির্বাচন একেবারে ফাঁকা মাঠে ছেড়ে দেবে, আমার তো মনে হয় এটার সম্ভাবনা খুব কম। অনেকেই নির্বাচন করতে চাইবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে না এটা দলীয়ভাবে, অফিসিয়ালি বলেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে তাদের প্রার্থী নেই। কিন্তু কাউন্সিলর-ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক নেতার প্রার্থীতা রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) হয়তো ওপেনলি প্রতীকে নেই। তারা একেবারে মাঠে নেই- একথা বলা যাবে না। উপজেলা নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারে। দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কাজেই আমাদের সবকিছুই মাথায় রাখতে হচ্ছে। ওপেনলি ঘোষণা দিচ্ছে না। তারা (বিএনপি) ভিতরে-ভিতরে প্রার্থীতার জন্য মনোনয়ন জমা দিচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি না আসলেও প্রার্থীতার অভাব হবে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিএনপি নির্বাচন না করলে অন্যরা করবে না, তা তো নয়। জাতীয় পার্টি আছে, ১৪ দলের শরিকরা আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির অধিকার। আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে তাদের নির্বাচনে (উপজেলা) আসার আহ্বান জানাতেই পারি। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে এটা তাদের অধিকার। রুলিং পার্টির কোনো সুযোগ বিতরণ নয়৷

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, গণ আন্দোলন করার মতো ইস্যু তাদের কাছে ছিল, কিন্তু তারা তখন আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি যখন গ্রেফতার হলেন তখন তারা জনমনে বিন্দুমাত্র আলোড়ন তুলতে পারেনি। তারা যে আন্দোলন করবে নতুন করে কোনো ইস্যু তাদের সামনে নেই। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ মুহূর্তে সরকার তো কোনো ইস্যু দিচ্ছে না তাহলে তারা কীসের উপর ভিত্তি করে আন্দোলন করবে।

এ সময় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মনসুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগে ফিরছেন কি না এটা তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা তার নিজস্ব চিন্তা-ধারণা, এটা নিয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আর এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আমি দিতে যাব কেন? তারও বিবেক আছে, রাজনীতি করে। কাজেই সে তার বিবেক থেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা কেন তাকে প্রভাবিত করব?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here