রাবির ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন

0
23

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এবার বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা যদি মানবিক বিভাগের ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করেন তাহলে বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান বিভাগের ‘বি’ এবং ‘সি’ ইউনিটে আবেদন করতে পারবেন না। ফলে বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগের ইউনিটে আবেদন করলে হারাতে হবে ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের সুযোগ।

ভর্তি পরীক্ষার নিয়মের এ পরিবর্তনের ফলে আগের মতো শিক্ষার্থীরা আর নিজ ইউনিটের পাশাপাশি বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিটে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘এ’ ইউনিটে, ব্যবসার শিক্ষার্থীরা ‘বি’ এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাই ‘সি’ ইউনিটে অংশ নিতে পারবে। এমনকি একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বিভাগ পরিবর্তনের আগের সুযোগ হারাতে হচ্ছে ব্যবসা ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থীদের। এর আগে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ পরিবর্তন করে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় অনুষদের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত এবং বাণিজ্যের শিক্ষার্থীরাও মানবিক বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত। এবার সেই ‘ঘ’ ইউনিট সুযোগ রাখা হয়নি ভর্তি পরীক্ষায়।

ইতোমধ্যে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি পরীক্ষার নোটিশে এমন কোনো নিয়ম চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়নি। রাবিতেই প্রথম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে নিয়মে বিভাগ পরিবর্তনে তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না, তা নয়। যারা বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইবে তারা আবেদনের সময় চয়েজ দেবে। তবে পরীক্ষা দিতে হবে তার ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী। কারণ সে বিজ্ঞান বা বাণিজ্য পড়ে এসেছে। পরীক্ষার নম্বর অনুযায়ী তাদের বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হবে। কিন্তু বিজ্ঞান বা বাণিজ্য পড়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা দেয়া যাবে না। যে বিভাগ থেকে পাশ করেছে সেই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, একজন শিক্ষার্থী আগে বিজ্ঞান বা ব্যবয়ায় বিভাগে পড়ে একাধিক ইউনিটে আবেদন করতো এতে তাদের ব্যয়ও বেড়ে যেত। এবার এক ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম করে শিক্ষার্থীদের ব্যয়ও অনেকটা কমে যাবে।

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বর এমসিকিউ ও লিখিত অংশে সংক্ষিপ্ত ২০টি প্রশ্নে থাকবে ৪০ নম্বর। এমসিকিউ ৬০টির জন্য ৫০ মিনিট এবং লিখিত অংশের জন্য ৪০ মিনিট সময় পাবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৪৫ ও ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত দুই শিফটে। ভর্তির প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চূড়ান্ত আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ।

প্রথমে ৫৫ টাকা ফি প্রদান করে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণদের ১৯৮০ টাকা দিয়ে চূড়ান্ত আবেদন করতে হবে। প্রতি ইউনিটে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে।

মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় ন্যূন্যতম ৩ পয়েন্ট করে মোট ৭.০০ পয়েন্ট, বাণিজ্য বিভাগে ৩.৫ পয়েন্ট করে মোট ৭.৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম ৩.৫ করে মোট ৮ লাগবে।