ইউটিউবের জন্য যেভাবে ভিডিও বানাবেন

0
20

সৃজনশীলতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যমে হলো ইউটিউব। ইউটিউবে ভিডিও পাবলিশ করে ভিউয়ারদেরকে জানাতে পারেন যে আপনি কতটা সৃজনশীল। আপনি ইউটিউব থেকে আয়ও করতে পারেন।

শখের বশে হোক কিংবা আয়ের উদ্দেশ্যে হোক, ইউটিউব আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে অথবা সমৃদ্ধ করতে পারে। কিন্তু ইউটিউবার হিসেবে সফল হতে হলে আপনাকে ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। এ প্রতিবেদনটি আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে, যদি আপনি ইউটিউব ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই না জানেন। নতুনদের জন্য এ সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* উপযুক্ত বিষয় নির্ধারণ করুন

আপনার প্রথম ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার পূর্বে আপনার নির্বাচিত বিষয়টিকে বুঝতে হবে। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন এবং কাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাচ্ছেন তা নিয়ে ভাবুন। আপনার ভিডিও কি বিনোদনের উদ্দেশ্যে বানানো হবে? আপনার ভিডিও কি প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য? আপনি কি কোনো বিষয়ে লোকজনকে শিক্ষা দিতে চান?

আপনি যে কনটেন্ট নিয়েই ভিডিও নির্মাণের কথা ভাবেন না কেন, নিজেকে ভিউয়ারের অবস্থানে দাঁড় করিয়ে কি দেখতে চান তা নিয়ে ভাবুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন যে কেন আপনি একটি ইউটিউব ভিডিওতে ক্লিক করবেন? ভিডিওতে কি থাকলে আপনি তা বন্ধ না করে দেখতে থাকবেন?

আপনি কি জনপ্রিয় ইউটিউবারদের অনুকরণ করে ভিডিও বানাবেন? নাকি সৃজনশীলতার পরিচয় দেবেন? কাউকে অনুকরণ করবেন নাকি নিজস্ব চিন্তাভাবনা থেকে ভিডিও বানাবেন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সকল ভিডিওতে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায় না। আপনার ভিডিও শব্দবহুল হলে স্ক্রিপ্ট লেখার প্রয়োজন হতে পারে। এটি সময়সাপেক্ষ কাজ হলেও আপনার ভিডিওর মান বেড়ে যাবে।

আপনি মূল স্ক্রিপ্টের পূর্বে রাফ স্ক্রিপ্টও লিখতে পারেন, অর্থাৎ আপনি ভিডিওতে যা যা দেখাতে চান তার মূল পয়েন্টগুলো লিখে রাখা ভালো। আপনি স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সাবজেক্টকে উপস্থাপন করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে স্ক্রিপ্ট এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু এটা মনে রাখা ভালো- স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করলে ভিউয়ার হারাতে পারেন, কারণ মুখ ফসকে স্পর্শকাতর বা অবান্তর কথা বেরিয়ে যেতে পারে।

যথাসম্ভব ইউটিউবে নিজের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করুন, এমনকি আপনি স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করলেও। সময়ের ধারায় আপনার কণ্ঠস্বর ও স্টাইল ডেভেলপ হবে। ভিডিওর সূচনা ও সমাপ্তিতে কিভাবে ভিন্নতা আনা যায় তা নিয়ে মাথা খাটান। মনে রাখতে হবে, ভিউয়াররা এমন কিছু দেখলে খুশি হন যা আগে দেখেননি।

* ভিডিওর দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করুন

আপনার ভিডিওর দৈর্ঘ্য কত হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। ভিডিওর দৈর্ঘ্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিতে ভিউয়ারদের পছন্দ বুঝতে হবে। যদি আপনি ভিডিও জনপ্রিয় করতে চান, তাহলে ভিউয়ার কি চায় তা বুঝতে হবে। ভিউয়ারদের মনোভাব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভিডিওর দৈর্ঘ্য কতটুকু হবে। আপনি যে বিষয়ের ওপর ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন সে বিষয়ে অন্য ইউটিউবারদের ভিডিওগুলো দেখুন এবং এসব ভিডিওতে যারা কমেন্ট করেছেন তাদেরকে প্রশ্ন করুন যে তারা কত মিনিটের ভিডিও পেতে চান। তাদের প্রত্যুত্তর থেকে একটা ধারণা পাবেন যে ভিডিওর দৈর্ঘ্য কত হলে ভালো হবে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে অল্পই ভালো। আমাদের অধিকাংশই ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় বড় পোস্ট, আর্টিকেল ও ভিডিও এড়িয়ে চলেন। তাই ইউটিউবে সফলতার জন্য ভিডিওর দৈর্ঘ কম হওয়াই ভালো। বেশিরভাগ ভিউয়ার স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, ভিডিওর দৈর্ঘ্য বেশি হলে সফল হওয়া যাবে না। অনেক ইউটিউবার ৪৫ থেকে ৯০ মিনিটের ভিডিও আপলোড করেন- এসব ভিডিও হাজার হাজার লোকে দেখে থাকেন।

এটা ঠিক যে লম্বা ভিডিও বানাতে বেশি সময় ও শ্রম দিতে হয়, কিন্তু ভিডিওটি তথ্যবহুল হলে নির্দিষ্ট ভিউয়ারদের প্রশংসা পাবেন এবং তারা প্রবল আগ্রহ নিয়ে আপনার পরবর্তী ভিডিওর জন্য অপেক্ষা করবেন। ভিডিওর দৈর্ঘ্য এক ঘন্টার হতে পারে, কিন্তু ভ্লগ লম্বা দৈর্ঘ্যের না হওয়াই ভালো। সাধারণত ইউটিউবের রেসিপি, রিয়্যাকশন ও ক্যাট ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য ১০ মিনিটের কম হয়ে থাকে। আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফায়েড না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওর দৈর্ঘ্য ১৫ মিনিটের বেশি না হওয়াই ভালো। কমস্কোর রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অনলাইন ভিডিওর গড় দৈর্ঘ্য হলো ৪.৪ মিনিট।