রিফাত হত্যার তদন্ত প্রায় শেষ

0
21

এক মাস হতে চললো বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড। ২৬ জুন সকালে এ দিনে কলেজের সামনের রাস্তায় রিফাত শরীফকে স্ত্রী মিন্নির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা।

এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে কথা হয় বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এক মাসের তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কারা-কারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, কি কারণে রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে, পরিকল্পনা কারা করেছে, ঘটনার উদ্দশ্য কি, তার কাছাকাছি আমরা চলে গেছি। এ মামলার তদন্ত নিয়ে কোন ধরনের ধোঁয়াশাও নেই। কেননা, বেশিরভাগ আসামি আদালতেই সব বলেছে। রিফাতের স্ত্রীও যে এ ঘটনার সঙ্গে আছে, সেটিও বেরিয়ে এসেছে। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, তার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এ কারণে বলতে পারি মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে।

কবে তদন্ত শেষ হতে পারে- এ প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘বললাম তো আগেই। তারপরও মনে রাখতে হবে এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আসামি অনেক, তারপরও এটি হত্যা মামলা। এসব বিষয় চিন্তা করলে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, কবে তদন্ত শেষ হবে। তবে আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট্ররা বলছেন, এক মাসের মধ্যে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন। উদ্ধার করা বেশ কিছু আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত মূল আসামি নয়ন বন্ডের বাসা থেকে মেয়েদের একটি জামা, চিরুণী, এন+এম লেখা একটি শামুক, নয়ন ও মিন্নির একসঙ্গে একটি ছবি, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। এসব আলামত দিয়েই এ ঘটনাটি কেন ঘটেছে, কারা জড়িত তার সব কিছু পরিস্কার হওয়া গেছে। মূলত ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে সৃষ্ট কারণে ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১৫ থেকে ২০ জনের নাম থাকতে পারে। যাদের অনেকেই দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকেল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সোস্যাল মিডিয়ার কারণে আলোচনার ঝড় তোলে।